‘করোনা ভাইরাস’ এক অদৃশ্য শত্রূ যার মোকাবেলা করতে গিয়ে পুরো বিশ্ব আজ হিমশিম খাচ্ছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড এর মতো প্রথম সারির দেশগুলো আজ দূর্বল হয়ে পড়েছে এই ভাইরাস মোকাবেলায়। মৃত্যুর মিছিল যেনো থামছে না। এক অজানা আতংকে স্থবির হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। এর শেষ কবে, কোথায় কারো জানা নেই। বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূখে গোটা বিশ্ব।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসের আক্রমনে বিপর্যস্ত। মার্চ মাসে প্রথম আক্রান্ত ধরা পড়ার পর থেকে জ্যামিতিক হারে প্রতিদিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর তালিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমন ঠেকাতে ৩ মাস পুরো দেশ লকডাউন রাখা হয়, যাতায়াত নিয়ন্ত্রন করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যার বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা বড়ো অংশ হলো খেটে খাওয়া দিন-মজুর ও নিম্ন আয়ের, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা আজ হুমকির মুখে। রিকশা, ভ্যান চালক, গার্মেন্টস-শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অনেকেরই উপার্জন বন্ধ হওয়ার পথে। পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ ,মৌলিক চাহিদা পূরণ তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
“করোনা ভাইরাস” এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ভয়ের চেয়ে অনাহারে মৃত্যুর ভয় যেনো দিনদিন তাদের কাছে প্রকট হয়ে উঠছে। অনেক নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবার যাদের স্বাচ্ছন্দে দিন কাটছিলো করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পূর্বে তাদেরও আজকে উপার্জন বন্ধ। পুর্বের সঞ্চিত অর্থ অথবা ধার করে তাদের পরিবার চালাতে হচ্ছে।
“আস্থা-হস্পিস” দেশের ক্রান্তি লগ্নে এই কষ্টে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে শুরু থেকেই। মার্চের শেষের দিকে দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য বিতরন করা হয় ফুড প্যাকেজ যেখানে ২০০ টি পরিবারকে এই ফুড প্যাকেজের আওতায় আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের একটি তালিকা করে প্রদান করা হয় এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রীর জন্য অর্থকরোনা ভাইরাসের সংকট কতদিন মোলাবেলা করতে হবে তা এখনো অজানা। এ মহামারীকে সাথে নিয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমতো কাজ করে যেতে হবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য।
“আস্থা হসপিস” নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে ‘ফুড প্যাকেজ’ প্রোগ্রামটি অব্যাহত রাখার লক্ষে কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজন সচল অর্থ তহবিল। “আস্থা হসপিস” এর নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা শুরু থেকেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনার দান করা সামান্য অর্থ ও একটি পরিবারকে এই সংকটকালীন সময়ে একটু স্বস্তি দিবে। আসুন আমরা আামাদের সাহায্যের হাত প্রসারিত করি এই বিশ্ব মহামারী মোকাবিলায় ।